কানে কম শোনা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর কারণ সব রোগীর ক্ষেত্রে এক নয়। কারও কথা পরিষ্কারভাবে বুঝতে অসুবিধা হওয়া, টেলিভিশনের শব্দ বাড়িয়ে দেওয়া, ফোনে এক কান দিয়ে ভালো না শোনা কিংবা ভিড়ের মধ্যে কথোপকথন বুঝতে সমস্যা হওয়া শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
কানের ময়লা, ইনফেকশন বা মধ্যকানে পানি জমার কারণে সাময়িকভাবে কানে কম শোনা দেখা দিতে পারে। আবার বয়স, দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দে থাকা, ভেতরের কানের ক্ষতি অথবা auditory nerve-এর সমস্যায় hearing loss স্থায়ীও হতে পারে। সমস্যাটি একটি বা দুই কানেই হতে পারে এবং এর মাত্রা হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষ করে একটি কানে হঠাৎ শুনতে না পাওয়া জরুরি চিকিৎসার বিষয়। একে কানের ময়লা, সর্দি বা সাময়িক blockage মনে করে অপেক্ষা না করে দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কানে কম শোনা কী?
শব্দ প্রথমে বাইরের কানের নালি দিয়ে কানের পর্দায় পৌঁছায়। কানের পর্দা ও মধ্যকানের ছোট হাড়গুলো সেই কম্পন ভেতরের কানে পাঠায়। ভেতরের কানের cochlea শব্দকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে auditory nerve-এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়।
এই পুরো পথের যেকোনো অংশে সমস্যা হলে শব্দ দুর্বল, অস্পষ্ট বা বিকৃত মনে হতে পারে। কারও শুধু কম শব্দ শুনতে সমস্যা হয়, আবার কেউ শব্দ শুনলেও কথার অর্থ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন না। তাই hearing loss বলতে শুধু শব্দের volume কম শোনা নয়; speech understanding-এর সমস্যাও এর অংশ হতে পারে।
কানে কম শোনার লক্ষণ
Hearing loss-এর লক্ষণ বয়স, কারণ ও সমস্যার মাত্রা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন নিয়মিত দেখা গেলে hearing test করানো উচিত।
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- অন্যের কথা চাপা বা অস্পষ্ট শোনা
- বারবার কথা পুনরায় বলতে বলা
- ফোনে একটি কান দিয়ে ভালো না শোনা
- ভিড়ের মধ্যে কথা বুঝতে অসুবিধা
- টেলিভিশন বা মোবাইলের শব্দ বাড়িয়ে রাখা
- দরজার ঘণ্টা বা ফোনের রিং মিস করা
- একটি কান অন্যটির তুলনায় কম শোনা
- কানে শোঁ শোঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া
- কান বন্ধ বা ভারী মনে হওয়া
- কথা বোঝার জন্য মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা
শিশুদের ক্ষেত্রে কথা বলতে দেরি, অস্পষ্ট উচ্চারণ, নির্দেশনা না বোঝা, ঘন ঘন “কী?” বলা এবং টেলিভিশনের শব্দ বেশি রাখা hearing loss-এর লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় এগুলোকে অমনোযোগ বা আচরণগত সমস্যা মনে করা হয়।
কম শোনার ধরন
সমস্যাটি কানের কোন অংশে হয়েছে, তার ভিত্তিতে hearing loss সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে দেখা হয়। ধরন নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটির চিকিৎসা এক নয়। কানে কম শোনা কোন ধরনের সমস্যা থেকে হচ্ছে, তা নির্ধারণ করা জরুরি; কারণ conductive, sensorineural এবং mixed hearing loss-এর চিকিৎসা এক নয়।
Conductive hearing loss
বাইরের বা মধ্যকান দিয়ে শব্দ ভেতরের কানে ঠিকভাবে পৌঁছাতে না পারলে conductive hearing loss হয়। কানের ময়লা, কানের নালিতে বাধা, মধ্যকানে পানি, কানের পর্দা ফেটে যাওয়া বা মধ্যকানের হাড়ের সমস্যায় এটি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে শব্দ সাধারণত কম বা বন্ধ ধরনের শোনা যায়। অনেক conductive problem কারণভিত্তিক চিকিৎসা, ময়লা অপসারণ, ওষুধ বা প্রয়োজনীয় ear surgery-এর মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। Audiogram-এর মাধ্যমে এটি sensorineural hearing loss থেকে আলাদা করা হয়।
Sensorineural hearing loss
Cochlea-এর sensory cell বা auditory nerve ক্ষতিগ্রস্ত হলে sensorineural hearing loss হয়। বয়স বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দে থাকা, কিছু ওষুধ, জন্মগত কারণ এবং ভেতরের কানের বিভিন্ন রোগ এর জন্য দায়ী হতে পারে।
এই ধরনের hearing loss-এ শুধু শব্দ কম নয়, কথাও বিকৃত বা অস্পষ্ট শোনা যেতে পারে। এটি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী হয়। তবে hearing aid, assistive device এবং নির্বাচিত গুরুতর ক্ষেত্রে cochlear implant যোগাযোগের সক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
Mixed hearing loss
Conductive ও sensorineural সমস্যা একসঙ্গে থাকলে তাকে mixed hearing loss বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে, একজন রোগীর বয়সজনিত inner-ear hearing loss-এর সঙ্গে কানের পর্দায় ছিদ্র বা মধ্যকানে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও থাকতে পারে।
এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার আগে সমস্যার প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। মধ্যকানের চিকিৎসা করলেও ভেতরের কানের ক্ষতি থেকে যাওয়া hearing loss-এর জন্য hearing aid প্রয়োজন হতে পারে।
কানে কম শোনার প্রধান কারণ
কানে কম শোনার কারণ অনেক। শুধু লক্ষণ শুনে সঠিক কারণ নির্ধারণ করা যায় না। কানের পরীক্ষা ও audiometry test-এর ফলাফল একসঙ্গে দেখে diagnosis করা হয়।
কানের ময়লা
Earwax বা কানের ময়লা স্বাভাবিকভাবে কানের নালিকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত ময়লা জমে নালি বন্ধ হয়ে গেলে শব্দ কানের পর্দায় ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না। তখন কান বন্ধ লাগা, নিজের কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনির মতো শোনা, কানে শব্দ হওয়া এবং সাময়িকভাবে কম শোনার সমস্যা হতে পারে।
কম শোনা মানেই কানের ময়লা—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। Middle-ear fluid এবং sudden inner-ear hearing loss-এও একই ধরনের fullness অনুভূত হতে পারে। Cotton bud বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে ময়লা আরও ভেতরে যেতে পারে বা কানের নালি ও পর্দায় আঘাত লাগতে পারে।
ইনফেকশন ও পানি
বাইরের কানের নালি বা মধ্যকানে infection হলে swelling, fluid ও discharge তৈরি হতে পারে। এতে শব্দ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে সাময়িক conductive hearing loss দেখা দিতে পারে।
শিশুদের middle-ear infection-এর পর কানের পর্দার পেছনে কিছুদিন fluid থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় fluid থাকলে শিশুর কথা শোনা, উচ্চারণ এবং ভাষার বিকাশে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বারবার infection বা দীর্ঘদিন কান বন্ধ থাকার অভিযোগ থাকলে hearing evaluation প্রয়োজন।
পর্দার সমস্যা
কানের infection, আঘাত, হঠাৎ চাপের পরিবর্তন অথবা কানে কোনো বস্তু ঢোকানোর কারণে কানের পর্দা ছিদ্র হতে পারে। এতে hearing loss-এর পাশাপাশি কান থেকে পানি বা পুঁজ পড়া, ব্যথা, tinnitus কিংবা কখনো মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে।
অনেক ছোট perforation নিজে থেকে শুকিয়ে যায়। তবে ছিদ্র না শুকালে, বারবার discharge হলে বা শ্রবণশক্তি কমে গেলে ENT মূল্যায়ন প্রয়োজন। নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে myringoplasty বা tympanoplasty দিয়ে পর্দা এবং প্রয়োজনে মধ্যকানের hearing bone মেরামত করা হয়।
বয়স ও শব্দ
বয়সের সঙ্গে ধীরে ধীরে দুই কানের শ্রবণশক্তি কমে যাওয়াকে presbycusis বলা হয়। প্রথমদিকে চিকন বা উচ্চ frequency-এর শব্দ এবং ভিড়ের মধ্যে কথা বুঝতে বেশি সমস্যা হতে পারে। এই পরিবর্তন সাধারণত ধীরে হয়, তাই রোগী অনেক দিন পর বিষয়টি বুঝতে পারেন।
কারখানার মেশিন, বিস্ফোরণ, উচ্চ শব্দের অনুষ্ঠান বা দীর্ঘ সময় জোরে headphone ব্যবহারে inner ear-এর সংবেদনশীল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খুব জোরে শব্দ অল্প সময়েও ক্ষতি করতে পারে, আবার তুলনামূলক কম কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী loud noise-ও noise-induced hearing loss তৈরি করতে পারে।
ওষুধ ও রোগ
কিছু চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ inner ear-এর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলোকে ototoxic medicine বলা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো prescribed medicine বন্ধ করা যাবে না।
কোনো ওষুধ শুরু করার পর কানে শব্দ, ভারসাম্যের সমস্যা বা hearing loss দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। Diabetes, কিছু autoimmune disease, Ménière’s disease, মাথায় আঘাত এবং auditory nerve-এর সমস্যাও hearing loss-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা chronic ear infection, noise, বয়স, জন্মগত কারণ ও ototoxic medicine-কে উল্লেখযোগ্য hearing-loss cause হিসেবে চিহ্নিত করে।
হঠাৎ কম শুনলে
একটি বা দুই কানে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে তাকে sudden hearing loss বলা হতে পারে। অনেক রোগী ঘুম থেকে উঠে একটি কানে কম শোনেন অথবা ফোন এক কান থেকে অন্য কানে নিলে পার্থক্যটি বুঝতে পারেন। হঠাৎ কানে কম শোনা শুরু হলে ব্যথা না থাকলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে এক কানে সমস্যা হলে দ্রুত ear examination ও pure-tone audiometry প্রয়োজন হতে পারে।
এর সঙ্গে কান বন্ধ লাগা, tinnitus বা মাথা ঘোরা থাকতে পারে। ব্যথা না থাকলেও এটি গুরুতর হতে পারে। অনেকেই কানের ময়লা, সর্দি বা allergy মনে করে কয়েক দিন অপেক্ষা করেন, যা ঠিক নয়।
Sudden sensorineural hearing loss-কে দ্রুত মূল্যায়ন করা দরকার। ENT specialist প্রথমে কানের ময়লা, fluid বা অন্য conductive বাধা আছে কি না দেখেন। দৃশ্যমান কারণ না পাওয়া গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই pure-tone audiometry করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্রুত diagnosis ও চিকিৎসা শুরু করা recovery-এর সম্ভাবনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কম শোনার পরীক্ষা কীভাবে পরীক্ষা হয়?
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার কারণ নির্ধারণে শুধু রোগীর অনুভূতি যথেষ্ট নয়। ENT examination এবং formal hearing test প্রয়োজন হতে পারে। Audiometric testing hearing loss শনাক্ত ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের প্রধান পদ্ধতি।
কানের পরীক্ষা
প্রথমে কানের নালি ও পর্দা otoscope বা microscope দিয়ে দেখা হয়। এর মাধ্যমে কানের ময়লা, infection, discharge, পর্দায় ছিদ্র, middle-ear fluid বা cholesteatoma-এর সম্ভাব্য লক্ষণ বোঝা যায়।
চিকিৎসক সমস্যাটি হঠাৎ নাকি ধীরে হয়েছে, এক নাকি দুই কান আক্রান্ত, কানে শব্দ বা মাথা ঘোরা আছে কি না, উচ্চ শব্দে কাজ করার ইতিহাস এবং ব্যবহৃত ওষুধ সম্পর্কে জানতে পারেন।
Audiometry test
Pure-tone audiometry test-এ headphone-এর মাধ্যমে বিভিন্ন pitch ও volume-এর শব্দ শোনানো হয়। রোগী সবচেয়ে কম কতটুকু শব্দ শুনতে পারেন, তা audiogram-এ রেকর্ড করা হয়।
এ পরীক্ষায় কোন কান আক্রান্ত, hearing loss কতটা এবং conductive নাকি sensorineural—সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। Speech audiometry-এর মাধ্যমে কথা শনাক্ত ও বুঝতে রোগীর কতটা সমস্যা হচ্ছে তা মূল্যায়ন করা হয়। দীর্ঘদিন কানে কম শোনা সমস্যার ক্ষেত্রে audiometry test চিকিৎসার পরিকল্পনা এবং hearing aid বা ear surgery প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Tympanometry
Tympanometry কানের পর্দা ও মধ্যকানের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে। কানের পর্দার নড়াচড়া, middle-ear pressure ও fluid থাকার সম্ভাবনা বুঝতে এটি সহায়তা করে।
এটি pure-tone audiometry-এর বিকল্প নয়। বরং hearing test-এর সঙ্গে ব্যবহার করলে সমস্যাটি মধ্যকানে নাকি ভেতরের কানে—সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
শিশুদের পরীক্ষা
খুব ছোট শিশু সাধারণ audiometry-তে নির্ভরযোগ্যভাবে response দিতে নাও পারে। তাদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী OAE, ABR বা বিশেষ behavioral hearing test করা হয়।
কথা বলতে দেরি, অস্পষ্ট উচ্চারণ বা শব্দে সাড়া না দেওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে “বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে” ভেবে অপেক্ষা না করে hearing evaluation করা উচিত। Early identification শিশুর যোগাযোগ ও ভাষার বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কানে কম শোনার চিকিৎসা
কানে কম শোনার চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ, ধরন এবং hearing loss-এর মাত্রার ওপর। কানের ময়লা, infection, middle-ear fluid, পর্দার ছিদ্র এবং inner-ear damage-এর চিকিৎসা এক নয়। তাই পরীক্ষা ছাড়া নিজের মতো ear drop, ওষুধ বা hearing device ব্যবহার করা উচিত নয়।
কারণভিত্তিক চিকিৎসা
Impacted earwax থাকলে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক নিরাপদভাবে ময়লা অপসারণ করতে পারেন। Ear infection বা middle-ear fluid থাকলে সমস্যার ধরন অনুযায়ী ওষুধ, পর্যবেক্ষণ অথবা অন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কানের পর্দা ছিদ্র থাকলে কান শুকনা রাখা এবং infection নিয়ন্ত্রণ জরুরি। দীর্ঘদিন ছিদ্র, বারবার discharge বা middle-ear damage থাকলে tympanoplasty বা অন্য ear surgery বিবেচনা করা যেতে পারে।
Sudden sensorineural hearing loss-এর ক্ষেত্রে ENT specialist পরীক্ষা ও audiometry-এর ফল দেখে দ্রুত চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন। নিজের সিদ্ধান্তে steroid বা অন্য ওষুধ গ্রহণ নিরাপদ নয়।
Hearing aid
Inner-ear damage-এর কারণে স্থায়ী sensorineural hearing loss হলে hearing aid শব্দকে বাড়িয়ে শোনা ও কথা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। এটি মূল ক্ষতি সারিয়ে দেয় না, তবে সঠিক hearing test, fitting ও programming-এর মাধ্যমে দৈনন্দিন যোগাযোগ উন্নত করতে পারে।
বাজার থেকে নিজের মতো hearing device কেনার আগে audiometry ও professional evaluation করা ভালো। কারণ দুই কানের hearing level, speech understanding এবং রোগীর দৈনন্দিন প্রয়োজন অনুযায়ী device নির্বাচন করতে হয়।
Cochlear implant
Severe বা profound sensorineural hearing loss-এ hearing aid থেকে পর্যাপ্ত উপকার না পাওয়া নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে cochlear implant বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি সাধারণ hearing aid-এর মতো শুধু শব্দ বাড়ায় না; inner ear-এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ bypass করে auditory nerve-কে বৈদ্যুতিকভাবে stimulate করে।
Ear surgery কখন?
কিছু conductive hearing loss-এর কারণ surgery-এর মাধ্যমে ঠিক করা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে surgery প্রয়োজন কি না, তা শুধু hearing-loss level দেখে নয়; ear examination, audiogram, infection-এর অবস্থা এবং রোগীর দৈনন্দিন সমস্যা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিচের অবস্থায় ear surgery নিয়ে আলোচনা হতে পারে:
- দীর্ঘদিন কানের পর্দা ছিদ্র থাকা
- বারবার কান থেকে পানি বা পুঁজ পড়া
- Cholesteatoma
- Middle-ear hearing bone ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
- Otosclerosis
- দীর্ঘমেয়াদি middle-ear disease
- ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না হওয়া নির্দিষ্ট সমস্যা
Tympanoplasty কানের পর্দা এবং কখনো middle-ear hearing bone মেরামতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে cholesteatoma আশপাশের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সাধারণত surgical removal প্রয়োজন হয়।
Inner-ear বা auditory nerve-এর hearing loss সাধারণ middle-ear surgery দিয়ে ঠিক হয় না। তাই surgery-এর আগে audiometry-এর মাধ্যমে hearing loss-এর ধরন নিশ্চিত করা জরুরি।
কী করবেন?
কানে কম শোনা শুরু হলে প্রথমে লক্ষ্য করুন সমস্যাটি হঠাৎ হয়েছে নাকি ধীরে ধীরে বেড়েছে। হঠাৎ একটি কানে কম শুনলে দ্রুত ENT specialist-এর কাছে যেতে হবে। ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়লে appointment নিয়ে ear examination এবং hearing test করানো উচিত।
হঠাৎ একটি কানে কম শুনলে একই দিন বা যত দ্রুত সম্ভব ENT specialist-এর কাছে যান। ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়লে appointment নিয়ে ear examination এবং hearing test করান। কান পরিষ্কার করতে cotton bud, matchstick, hairpin বা অন্য কোনো বস্তু ব্যবহার করবেন না।
কান থেকে পানি বা পুঁজ পড়লে নিজের সিদ্ধান্তে যেকোনো ear drop ব্যবহার করা ঠিক নয়। কানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে কিছু drop উপযুক্ত নাও হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত সব ওষুধের নাম চিকিৎসককে জানান এবং prescribed medicine নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ করবেন না।
শিশুর speech delay, নাম ধরে ডাকলে response না করা বা টেলিভিশনের কাছে গিয়ে শোনার অভ্যাস থাকলে hearing test করান। সময়মতো শনাক্তকরণ শিশুর ভাষা ও শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
কখন জরুরি?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে:
- হঠাৎ একটি কানে কম শোনা
- কয়েক ঘণ্টায় শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া
- Hearing loss-এর সঙ্গে তীব্র মাথা ঘোরা
- মুখের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হওয়া
- মাথায় আঘাতের পর hearing loss
- কান থেকে রক্ত বা পরিষ্কার তরল পড়া
- তীব্র ব্যথা, জ্বর বা কানের পেছনে ফোলা
- শিশুর কানে কোনো বস্তু আটকে যাওয়া
- Hearing loss-এর সঙ্গে অন্য neurological symptom
হঠাৎ hearing loss-কে শুধু কানের ময়লা মনে করে অপেক্ষা করা উচিত নয়। দৃশ্যমান বাধা না থাকলে দ্রুত pure-tone audiometry দিয়ে sensorineural loss আছে কি না পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রতিরোধের উপায়
সব hearing loss প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে উচ্চ শব্দ ও কানের আঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে অনেক ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি রক্ষা করা যায়।
কাজের জায়গায় উচ্চ শব্দ থাকলে earplug বা earmuff ব্যবহার করুন। Headphone-এর volume আরামদায়ক পর্যায়ে রাখুন এবং দীর্ঘ সময় একটানা শোনা থেকে বিরতি নিন। শব্দের কাছে দাঁড়িয়ে কথা বলতে চিৎকার করতে হলে পরিবেশটি কানের জন্য অতিরিক্ত loud হতে পারে।
কানে কোনো বস্তু প্রবেশ করাবেন না। Ear infection, discharge বা পর্দার সমস্যা হলে সময়মতো চিকিৎসা নিন। Ototoxic medicine-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে hearing monitoring নিয়ে আলোচনা করুন। উচ্চ শব্দ inner ear-এর সংবেদনশীল গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এ ধরনের ক্ষতি স্থায়ী হতে পারে।
শেষ কথা
কানের ময়লা, infection, middle-ear fluid, কানের পর্দায় ছিদ্র, বয়স, অতিরিক্ত শব্দ এবং inner-ear disease—বিভিন্ন কারণে কানে কম শোনা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে চিকিৎসা শুরু না করে সঠিক কারণ এবং hearing loss-এর ধরন নির্ণয় করা জরুরি।
দীর্ঘদিন কানে কম শোনা থাকলে ENT examination ও audiometry test করানো উচিত। আর একটি কানে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নিতে হবে।
কানে কম শোনা, tinnitus, ear discharge অথবা কানের পর্দার সমস্যা থাকলে Prof. Dr. Zaheer Al-Amin-এর পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় hearing test এবং উপযুক্ত medical বা surgical treatment সম্পর্কে জানতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন
কানে কম শোনা কেন হয়?
কানের ময়লা, infection, middle-ear fluid, কানের পর্দা ফাটা, বয়সজনিত পরিবর্তন, অতিরিক্ত শব্দ এবং inner-ear বা auditory nerve-এর সমস্যায় hearing loss হতে পারে।
ময়লা হলে কি কম শোনা যায়?
হ্যাঁ। অতিরিক্ত earwax কানের নালি বন্ধ করলে সাময়িক conductive hearing loss হতে পারে। তবে কম শোনার কারণ নিশ্চিত না হয়ে নিজে কান পরিষ্কার করা উচিত নয়।
Audiometry test কী?
Audiometry test-এ বিভিন্ন pitch ও volume-এর শব্দ শুনিয়ে hearing threshold মাপা হয়। এর মাধ্যমে hearing loss-এর মাত্রা ও সম্ভাব্য ধরন নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।
Hearing test কি ব্যথাযুক্ত?
Pure-tone audiometry সাধারণত non-invasive ও ব্যথামুক্ত। রোগী headphone দিয়ে শব্দ শুনে button চাপেন বা অন্যভাবে response জানান।
হঠাৎ কম শুনলে কী করব?
একটি কানে হঠাৎ কম শুনলে দ্রুত ENT specialist-এর কাছে যেতে হবে। কানের ময়লা বা সর্দি মনে করে কয়েক দিন অপেক্ষা করা ঠিক নয়।
Hearing aid কি রোগ সারায়?
Hearing aid inner-ear damage সারিয়ে তোলে না। এটি শব্দ amplify করে শোনা ও কথা বোঝার ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
পর্দা ফাটলে কি surgery লাগে?
সব ক্ষেত্রে surgery লাগে না। কিছু ছোট perforation নিজে থেকে শুকাতে পারে। তবে ছিদ্র দীর্ঘদিন থাকলে, বারবার discharge বা hearing loss হলে tympanoplasty বিবেচনা করা হয়।
শিশু কম শুনলে কী করবেন?
শিশুর hearing test দ্রুত করাতে হবে। বিশেষ করে কথা বলতে দেরি, শব্দে সাড়া না দেওয়া বা বারবার ear infection হলে evaluation পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়।